১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাভিত্তিক আবহাওয়ার বিস্তারিত পূর্বাভাস – শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা
শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারী, ২০২৬-এর সামগ্রিক আবহাওয়ার চিত্র
প্রিয় পাঠক, ‘চাকরি সংবাদ’-এর এই বিশেষ আবহাওয়া পূর্বাভাস পর্বে আপনাকে স্বাগতম। আজ শুক্রবার, ১৬ই জানুয়ারী, ২০২৬। এই মুহূর্তে গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে শীতের দাপট তুঙ্গে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল ও শুষ্ক বাতাস রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রার পারদ নামিয়ে দিয়েছে। বিশেষত পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যারা কাজের জন্য বা অন্য প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছেন, তাদের জন্য আমরা বিস্তারিত জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস তুলে ধরছি।
বর্তমানে রাজ্যের আকাশ সাধারণত মেঘমুক্ত থাকবে। দিনের বেলায় সূর্যের তেজ সামান্য অনুভূত হলেও, সকাল ও রাতের দিকে তীব্র শীত অনুভূত হবে। কুয়াশা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, বিশেষত উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির পূর্বাভাস: কুয়াশা ও শৈত্যের দাপট
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে শীতের তীব্রতা চরমে। এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল ঘন কুয়াশার চাদর। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক, ট্রেন ও বিমান পরিবহনে সামান্য বিলম্ব হতে পারে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
- দার্জিলিং, কালিম্পং (পাহাড়ি অঞ্চল): এখানকার উচ্চ অঞ্চলগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১°C থেকে ৪°C-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। তীব্র ঠান্ডা বজায় থাকবে। সান্দাকফু বা ফালুটের মতো উচ্চ এলাকায় হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গরম পোশাক এবং যথাযথ সতর্কতা জরুরি।
- জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার: এই জেলাগুলিতে ঘন থেকে অতি ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সকালে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটার বা তারও কম হতে পারে, যা দ্রুতগামী যানবাহনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮°C থেকে ১০°C এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১°C-এর আশেপাশে থাকবে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কাটতে শুরু করলেও শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে।
- উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা: অপেক্ষাকৃত নিচু এই জেলাগুলিতেও শীতের অনুভূতি প্রবল। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭°C থেকে ৯°C-এর মধ্যে থাকতে পারে। সকালে মাঝারি ধরনের কুয়াশা থাকবে, যা কৃষি ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। দিনের মধ্যভাগে আকাশ পরিষ্কার ও রোদ ঝলমলে থাকবে।
উত্তরবঙ্গে মূলত শুষ্ক ও শীতল আবহাওয়া বজায় থাকবে। চাষিদের কুয়াশা এবং অতিরিক্ত শিশির থেকে সরষে বা আলুর মতো ফসল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির পূর্বাভাস: শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা
দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে আবহাওয়া দপ্তর শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। রাজ্যের এই অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি কম থাকবে। এই তীব্রতা অন্তত আগামী ৪৮ ঘণ্টা বজায় থাকবে বলে মনে করছে ‘চাকরি সংবাদ’ আবহাওয়া বিভাগ।
| জেলা | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (অনুমানিক) | আবহাওয়ার পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম | ৫°C – ৭°C | শৈত্যপ্রবাহ, তীব্র ঠান্ডা, দিনের বেলায় দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি |
| কলকাতা, হাওড়া, হুগলী | ১০°C – ১২°C | স্বাভাবিকের চেয়ে শীতল, শুষ্ক আবহাওয়া, সকালে হালকা কুয়াশা |
| পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৪ পরগণা | ৯°C – ১১°C | শীতের প্রভাব তীব্র, উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাস শীতল |
| পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া | ৮°C – ১০°C | শীতল দিন, সকাল-সন্ধ্যায় তীব্র ঠান্ডা |
বিস্তারিত বিশ্লেষণ: পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি, যেমন পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায়, রাতে তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিনের বেলায় সূর্যের আলো পর্যাপ্ত থাকলেও ঠাণ্ডা হাওয়ার কারণে তা আরামদায়ক হবে না। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যদিও তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকবে, তবে উত্তর দিক থেকে আসা শীতল হাওয়ার দাপটে শীতের অনুভূতি প্রবল হবে। এই আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়তে পারে।
সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ
১৬ই জানুয়ারী, ২০২৬-এর আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনা করে ‘চাকরি সংবাদ’ নিম্নলিখিত সতর্কতাগুলি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে:
- স্বাস্থ্য সতর্কতা: এই সময়ে ফ্লু এবং সর্দি-কাশির প্রবণতা বাড়ে। তীব্র ঠান্ডা থেকে বাঁচতে একাধিক স্তরের গরম কাপড় ব্যবহার করুন। শিশুদের এবং বয়স্কদের উষ্ণ রাখতে ঘরে হিটার বা উষ্ণ পানীয় ব্যবহার করা যেতে পারে।
- পরিবহন ও যোগাযোগ: বিশেষত উত্তরবঙ্গের জাতীয় সড়কগুলিতে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান এবং ফগ লাইট ব্যবহার করুন। দূরের যাত্রা থাকলে ট্রেনের সময়সূচি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে বের হওয়া উচিত।
- কৃষি: শৈত্যপ্রবাহের কারণে ফসলের ক্ষতি রোধে কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। রাতে খেতের পাশে ধোঁয়া সৃষ্টি করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
আবহাওয়ার এই তীব্র পরিবর্তন অস্থায়ী। তবে আগামী কয়েক দিন তীব্র শীত বজায় থাকবে। আবহাওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেটের জন্য ‘চাকরি সংবাদ’-এর সঙ্গে থাকুন। সুস্থ থাকুন এবং সতর্ক থাকুন।
